অর্থ কেন গুরুত্বপূর্ণ?

বেশিরভাগ মানুষ কখনো থেমে অর্থ নিয়ে ভাবেন না।

অর্থ উপার্জন বা ব্যয় করার কথা নয়, বরং অর্থ আসলে কী এবং কীভাবে কাজ করে, তা নিয়ে সত্যিই ভাবার কথা।

আমরা প্রতিদিন অর্থ ব্যবহার করি, অথচ এটি কীভাবে কাজ করে, সেই প্রশ্ন খুব কমই করি।

আরও পড়ার আগে, পাঁচটি প্রশ্ন নিয়ে একটু ভাবুন। সম্ভব হলে প্রতিটির একটি সংক্ষিপ্ত উত্তর লিখুন:

  1. মানুষের অর্থের প্রয়োজন কেন?
  2. কোনো কিছুকে অর্থ হিসেবে গণ্য করা হয় কিসের ভিত্তিতে?
  3. আপনি যে অর্থ ব্যবহার করেন, তা কে তৈরি বা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে?
  4. আপনি যে অর্থ ব্যবহার করেন, তার মূল্য আছে কেন?
  5. আগে আপনার অর্থ দিয়ে যে পরিমাণ জিনিস কেনা যেত, আজও কি একই পরিমাণ কেনা যায়?

আপনার উত্তরগুলো রেখে দিন। শেষে সেগুলো আবার দেখুন। এই নির্দেশিকা আপনার কিছু ধারণাকে আরও দৃঢ় করতে পারে, আবার কিছু ধারণা বদলেও দিতে পারে।

পড়ার সময় তথ্য ও মতামতের পার্থক্য লক্ষ করুন। "এই নোট দিয়ে কর পরিশোধ করা যায়" একটি যাচাইযোগ্য তথ্য। "এটিই অর্থের সর্বোত্তম রূপ" এমন একটি সিদ্ধান্ত, যার জন্য মানদণ্ড ও প্রমাণ প্রয়োজন।

এই নির্দেশিকা ছয়টি প্রশ্নকে কেন্দ্র করে তৈরি: অর্থ কেন গুরুত্বপূর্ণ, অর্থ কী, অর্থের ক্ষেত্রে কী কী সমস্যা দেখা দিতে পারে, বিটকয়েন কী, কীভাবে এটি নিরাপদে ব্যবহার করা যায় এবং এরপর কী আসতে পারে।

এটি কেবল শিক্ষার উদ্দেশ্যে তৈরি। এটি আর্থিক, বিনিয়োগ, আইনি বা করসংক্রান্ত পরামর্শ দেয় না এবং আপনাকে কোনো কিছু কিনতে, বিক্রি করতে বা ধরে রাখতেও বলে না।

অর্থ কী?

অর্থ হলো বিনিময়ের একটি হাতিয়ার।

কেউ শুধু অর্থের জন্যই অর্থ চায় না। আমরা অর্থ চাই তা দিয়ে যা কেনা যায় তার জন্য। একটি ব্যাংকনোট কেবল এক টুকরো কাগজ। এটি কাজে লাগে কারণ আমরা সত্যিই চাই এমন জিনিসের বিনিময়ে অন্যরা এটি গ্রহণ করবে, কেননা তারা আশা করে যে পরবর্তী সময়ে অন্যরাও এটি গ্রহণ করবে।

এটাই অর্থকে পণ্যবিনিময় থেকে আলাদা করে।

পণ্যবিনিময় ব্যবস্থায় লেনদেন তখনই সম্ভব হয়, যখন দুজনই একই সময়ে এবং উপযুক্ত পরিমাণে একে অপরের কাছে থাকা জিনিসটি চায়। অর্থনীতিবিদেরা একে বলেন চাহিদার দ্বিমুখী সামঞ্জস্য। আপনি যদি ধান চাষ করেন এবং আপনার জুতার প্রয়োজন হয়, তাহলে জুতা প্রস্তুতকারক হয়তো চালের বদলে রান্নার তেল চাইতে পারেন। অর্থ কেনাবেচাকে আলাদা করে এই সমস্যার সমাধান করে: আপনি একজনের কাছে আপনার চাল বিক্রি করেন এবং অন্য একজনের কাছ থেকে জুতা কেনেন।

অর্থ সাধারণত তিনটি কাজ করে।

এটি একটি বিনিময়ের মাধ্যম: মানুষ মূল্য পরিশোধের উপায় হিসেবে এটি গ্রহণ করে। এটি একটি হিসাবের একক: এর মাধ্যমে দাম প্রকাশ করা হয়, ফলে আমরা বিভিন্ন জিনিসের মূল্য তুলনা করতে পারি। আর এটি একটি মূল্য সঞ্চয়ের মাধ্যম: এটি আজকের মূল্য ভবিষ্যতে বহন করে নিয়ে যায়। কোনো অর্থই নিখুঁতভাবে মূল্য ধরে রাখে না, তবে অর্থের কিছু রূপ অন্যগুলোর তুলনায় ধীরে ক্রয়ক্ষমতা হারায়।

ইতিহাসজুড়ে অনেক কিছুই অর্থ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে: কড়ি, লবণ, পুঁতি, গবাদিপশু, তামা, রুপা এবং সোনা। মূল্যবান ধাতুগুলোর ব্যবহার ব্যাপক হয়ে ওঠে, কারণ সেগুলো ছিল দুষ্প্রাপ্য, টেকসই এবং ব্যাপকভাবে গ্রহণযোগ্য। কিন্তু ধাতু বহন করা ও সুরক্ষিত রাখা কঠিন, তাই ব্যাংকগুলো এমন কাগুজে দাবিপত্র ইস্যু করতে শুরু করে, যা জমা দিলে নির্দিষ্ট পরিমাণ ধাতু পাওয়া যেত। বিভিন্ন ধরনের স্বর্ণমানব্যবস্থায়, একটি মুদ্রা একক আইনগতভাবে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ সোনার সঙ্গে যুক্ত ছিল। স্থান ও সময়ভেদে নিয়মগুলো ভিন্ন ছিল।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অর্থ ধাতুর চেয়ে প্রতিষ্ঠান ও প্রতিশ্রুতির ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে ওঠে। ১৯৭১ সালে যুক্তরাষ্ট্র বিদেশি সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর জন্য ডলারের বিনিময়ে সোনা দেওয়ার আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা বন্ধ করে দেয়। বর্তমানে অধিকাংশ জাতীয় মুদ্রাই হলো ফিয়াট অর্থ: সরকারি কর্তৃত্বে, সাধারণত কোনো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমে ইস্যু করা মুদ্রা, যা জমা দিয়ে নির্দিষ্ট পরিমাণ সোনা বা অন্য কোনো পণ্য পাওয়া যায় না। লাতিন ভাষায় ফিয়াট শব্দের অর্থ হলো "তা-ই হোক", যাকে প্রায়ই "আদেশবলে" অর্থে বোঝানো হয়।

ফিয়াট অর্থ কার্যকর হয় কারণ মানুষ, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, ব্যাংক এবং সরকার এটি গ্রহণ করে। সাধারণত আইন একে বৈধ লেনদেনের মাধ্যমের স্বীকৃতি দেয় এবং কর পরিশোধে এর ব্যবহার বাধ্যতামূলক করে, আর মানুষ এটি চায় কারণ তাদের চারপাশের সবাই এটি ব্যবহার করে।

আমরা কোনো কিছুর সমর্থনপুষ্ট অর্থ থেকে এমন অর্থে পৌঁছেছি, যার ভিত্তি হলো কারও প্রতি আস্থা।

আমাদের টাকায় সমস্যা কোথায়?

মানুষ মুদ্রাস্ফীতি শব্দটি শুনলে সাধারণত জিনিসপত্রের দাম বাড়ার কথা ভাবে।

মূল্যস্ফীতি হলো সামগ্রিক মূল্যস্তরের ধারাবাহিক বৃদ্ধি। এর অন্য দিকটি হলো ক্রয়ক্ষমতা: অর্থের এক একক দিয়ে কতটা কেনা যায়। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের একটি ঝুড়ির দাম ১০০ মুদ্রা একক থেকে বেড়ে ১১০ হলে, সেই একই ১০০ একক দিয়ে আর পুরো ঝুড়িটি কেনা যায় না।

মুদ্রাস্ফীতির বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে, এবং প্রতিটির প্রভাব কতটা, তা নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে বিতর্ক আছে: অর্থ ও ঋণের সরবরাহ বৃদ্ধি, সরবরাহে বিঘ্ন, চাহিদার পরিবর্তন, মুদ্রার মান কমে যাওয়া, কর এবং উৎপাদন খরচ। একটি কারণ বিশেষ মনোযোগের দাবি রাখে, কারণ এটি কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং সচেতন সিদ্ধান্তের ফল: ফিয়াট ব্যবস্থায় অল্প কয়েকটি প্রতিষ্ঠান অর্থ ও ঋণের সরবরাহ বাড়াতে এবং এ-সংক্রান্ত নিয়ম পরিবর্তন করতে পারে।

কোনো কিছুকে কী মূল্যবান করে তোলে, তা নিয়ে ভাবুন।

মূল Mona Lisa তার যেকোনো অনুলিপির চেয়ে বেশি মূল্যবান, দেখতে বেশি সুন্দর বলে নয়, বরং সেটি একটিই আছে বলে। শুধু দুষ্প্রাপ্যতা মূল্য সৃষ্টি করে না, তবে মানুষ যখন কোনো কিছু চায়, তখন তার সরবরাহ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

অর্থ দিয়ে যা কেনা যায়, তার তুলনায় অর্থের সরবরাহ দ্রুত বাড়লে, প্রতিটি একক দিয়ে সাধারণত কম কেনা যায়।

মুদ্রাস্ফীতি সবার ওপর সমান প্রভাব ফেলে না। যিনি মূলত নগদ অর্থ বা সঞ্চয় রাখেন, তাঁর ক্রয়ক্ষমতা কমে যেতে পারে। যাঁর এমন সম্পদ আছে যার দাম বাড়ে, তিনি কিছুটা সুরক্ষিত থাকতে পারেন। মজুরি ও দামও ভিন্ন ভিন্ন গতিতে সমন্বিত হয়।

আপনার ব্যাংক হিসাবে থাকা অর্থও আপনার হাতে থাকা নগদ অর্থ থেকে আলাদা। ব্যাংক প্রতিটি আমানতের পুরোটা নগদ হিসেবে রাখে না: এর বেশির ভাগই ঋণ দেয় ও বিনিয়োগ করে। ব্যাংক হিসাবে থাকা অর্থ হলো আপনাকে অর্থ পরিশোধ করার ব্যাপারে ব্যাংকের প্রতিশ্রুতি। সেই প্রতিশ্রুতি সাধারণত রক্ষা করা হয়, তবে তা ব্যাংক এবং তার কার্যক্রমের নিয়মকানুনের ওপর নির্ভর করে।

চেষ্টা করে দেখুন: ক্রয়ক্ষমতা যাচাই

আপনার এলাকায় প্রচলিত কোনো সাধারণ পণ্য বা সেবা বেছে নিন, যেমন রুটি, যাতায়াত বা ফোনের ব্যালেন্স। আজকের দাম লিখে রাখুন। কয়েক বছর আগে এর দাম কত ছিল, তা কাউকে জিজ্ঞেস করুন, তারপর সম্ভব হলে কোনো নির্ভরযোগ্য নথির সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন। আয় কি একই হারে বেড়েছে? এই পরিবর্তনের পেছনে আর কী কারণ থাকতে পারে?

এসবের কোনোটির অর্থই এই নয় যে ফিয়াট অর্থ কাজ করে না। এটি সুবিধাজনক লেনদেন, নমনীয় ঋণব্যবস্থা এবং সংকট মোকাবিলার উপায় দেয়। কিন্তু এই একই নমনীয়তা ঝুঁকিও তৈরি করে: এর সরবরাহ ও নিয়ম বদলে যেতে পারে, আর যারা এটি ব্যবহার করে, এসব বিষয়ে তাদের মতামতের তেমন গুরুত্ব থাকে না।

এ কারণেই মানুষ বিকল্প খোঁজে, এবং এ কারণেই বিটকয়েন তৈরি হয়েছিল।

বিটকয়েন কী?

বিটকয়েনের আগে অনলাইনে অর্থ পাঠানো সবসময় একটি বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করত: কোনো ব্যাংক বা পেমেন্ট কোম্পানি, যা হিসাবখাতা রাখত, অ্যাকাউন্ট অনুমোদন করত এবং অর্থপ্রদান বিলম্বিত, আটকে দিতে বা বাতিল করে ফিরিয়ে দিতে পারত। কয়েক দশক ধরে কম্পিউটারবিজ্ঞানীরা কোনো কেন্দ্রীয় ইস্যুকারী ছাড়াই ডিজিটাল অর্থ তৈরির চেষ্টা করেছেন। কঠিন বিষয়টি ছিল, ডিজিটাল তথ্য সহজেই কপি করা যায়। কোনো ডিজিটাল মুদ্রা কপি করে দুবার খরচ করা গেলে, তা অর্থ হিসেবে কাজ করতে পারত না। একে বলা হয় দ্বৈত ব্যয়ের সমস্যা।

৩১ অক্টোবর ২০০৮ সালে Satoshi Nakamoto নাম ব্যবহারকারী কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী একটি সমাধান বর্ণনা করে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন: বিটকয়েন: একটি পিয়ার-টু-পিয়ার ইলেকট্রনিক নগদ অর্থব্যবস্থা। নেটওয়ার্কটি ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে চালু হয়।

বিটকয়েন হলো এমন ডিজিটাল অর্থ, যা বিকেন্দ্রীভূত, যার সরবরাহ সীমিত, এবং যা পাঠানো যায় ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে কোনো ব্যাংকের অনুমতি ছাড়াই।

ব্যবস্থাটি বিকেন্দ্রীভূত হওয়ার অর্থ হলো, এমন কোনো কেন্দ্রীয় কার্যালয় নেই, যা অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে, ব্যালান্স বদলাতে বা কারা যোগ দিতে পারবেন তা অনুমোদন করতে পারে। যে কেউ ওপেন-সোর্স সফটওয়্যারটি ডাউনলোড করে পরীক্ষা করতে পারেন, আর অনেক স্বাধীন কম্পিউটার রেকর্ডটির একটি কপি সংরক্ষণ করে। এর অর্থ এই নয় যে সবার প্রভাব সমান। এর অর্থ হলো, কোনো একক অংশগ্রহণকারী সবার জন্য হিসাবখাতা বা অর্থব্যবস্থার নিয়ম পরিবর্তন করতে পারেন না।

একটি সীমিত সরবরাহ থাকার অর্থ হলো, কখনোই ২১ মিলিয়নের বেশি বিটকয়েন থাকবে না। প্রকাশ্য সময়সূচি অনুযায়ী নতুন বিটকয়েন ছাড়া হয়, আর নোড নামে পরিচিত স্বাধীন কম্পিউটারগুলো এই নিয়ম ভঙ্গকারী যেকোনো ব্লক প্রত্যাখ্যান করে। এই সীমা বিশ্বাসযোগ্য, কারণ যে কেউ তা যাচাই করতে পারেন। তবে এটি প্রকৃতির কোনো নিয়ম নয়: অংশগ্রহণকারীরা নিয়মটি কার্যকর রাখেন বলেই এটি বজায় থাকে। আর সরবরাহ সীমিত হলেই যে দাম বাড়বে, তার নিশ্চয়তা নেই। দাম সরবরাহের পাশাপাশি চাহিদার ওপরও নির্ভর করে।

ব্যবস্থাটি ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে লেনদেনভিত্তিক হওয়ার অর্থ হলো, বিটকয়েন নেটওয়ার্কে কোনো অ্যাকাউন্ট না খুলেই বা কোনো কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের অনুমোদন না চেয়েই আপনি যেকোনো স্থানে যেকোনো ব্যক্তিকে বিটকয়েন পাঠাতে পারেন। আপনার নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকা বিটকয়েন কোনো কোম্পানি আটকে দিতে পারে না। এই স্বাধীনতার অন্য পিঠ হলো দায়িত্ব: একটি বৈধ লেনদেন সাধারণত বাতিল করে ফিরিয়ে নেওয়া অসম্ভব, আর নেটওয়ার্কটির কোনো সহায়তাকেন্দ্র নেই।

একটি ভুল ধারণা হলো, একটি বিটকয়েনের দাম বেশি বলে বিটকয়েন নাগালের বাইরে। আপনাকে একটি পুরো বিটকয়েন কিনতে বা ব্যবহার করতে হবে না। একটি বিটকয়েন ১০,০০,০০,০০০ ক্ষুদ্র এককে বিভক্ত হয়, যেগুলোকে বলা হয় সাতোশি, বা স্যাট। ১,০০,০০০ স্যাটের মালিক হওয়া আর ০.০০১ বিটকয়েনের মালিক হওয়া একই পরিমাণ বোঝায়।

নেটওয়ার্কটি বিভিন্ন অংশগ্রহণকারীর ওপর নির্ভর করে: ব্যবহারকারীরা যাঁরা বিটকয়েন পাঠান, গ্রহণ করেন ও সংরক্ষণ করেন; নোডগুলো যেগুলো প্রতিটি লেনদেন ও ব্লক নিয়ম মেনে চলছে কি না তা যাচাই করে; এবং মাইনাররা যাঁরা প্রায় প্রতি দশ মিনিটে রেকর্ডে একটি নতুন ব্লক যোগ করার জন্য প্রতিযোগিতা করেন। সেই রেকর্ড, অর্থাৎ ব্লকচেইন, প্রকাশ্য এবং যে কেউ তা দেখতে পারেন, আর সেটি পুনর্লিখন করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল।

বানান সম্পর্কে একটি কথা: বিটকয়েন শব্দটি ইংরেজিতে বড় হাতের B দিয়ে লিখলে সাধারণত নেটওয়ার্ক বা ব্যবস্থাকে বোঝায়। বিটকয়েন শব্দটি ইংরেজিতে ছোট হাতের b দিয়ে লিখলে অর্থটিকেই বোঝায়।

বিটকয়েনের সুবিধার পাশাপাশি কিছু সীমাবদ্ধতাও আছে। এর দাম দ্রুত বদলাতে পারে। ভুলের ফল সাধারণত স্থায়ী হয়। অনেক জায়গায় এর গ্রহণযোগ্যতা এখনো সীমিত, আর নিরাপদে এটি ব্যবহার করতে কিছুটা শিখতে হয়। বিটকয়েন প্রতিষ্ঠানের ওপর আস্থার কিছু অংশের বদলে যাচাই ও ব্যক্তিগত দায়িত্বের ওপর নির্ভর করে। এটি ঝুঁকি দূর করে না।

আপনি কীভাবে বিটকয়েন ব্যবহার করেন?

একটি বিটকয়েন ওয়ালেট হলো একটি উপকরণ, সাধারণত একটি অ্যাপ, যা দিয়ে আপনি বিটকয়েন গ্রহণ করতে, যাচাই করতে ও পাঠাতে পারেন। আপনার বিটকয়েন আপনার ফোনের ভেতরে জমা থাকে না: তা ব্লকচেইনে নথিভুক্ত থাকে। ওয়ালেট পরিচালনা করে সেই চাবিগুলো যেগুলো দিয়ে আপনি প্রমাণ করতে পারেন যে বিটকয়েন আপনার এবং কোনো পেমেন্টের অনুমোদন দিতে পারেন।

তাই যেকোনো ওয়ালেট সম্পর্কে প্রথম প্রশ্ন হলো: চাবিগুলোর নিয়ন্ত্রণ কার হাতে?

আপনার বিটকয়েন আসলে কার হাতে থাকে?

একটি স্ব-হেফাজতভিত্তিক ওয়ালেট-এর ক্ষেত্রে, চাবিগুলোর নিয়ন্ত্রণ আপনার হাতে থাকে।

এটি সেটআপ করার সময়, এটি আপনাকে দেখায় একটি সিড ফ্রেজ (যাকে রিকভারি ফ্রেজও বলা হয়): শব্দের একটি ক্রমানুসারী তালিকা, যাতে প্রায়ই ১২ বা ২৪টি শব্দ থাকে। এটি অন্য কোনো ডিভাইসে আপনার চাবিগুলো পুনরায় তৈরি করতে পারে। এটি যার কাছে থাকবে, সে আপনার বিটকয়েন নিয়ে নিতে পারবে। সিড ফ্রেজ শুধু একটি ব্যাকআপ নয়: এটি পূর্ণ প্রবেশাধিকার দেয়।

এটি সুরক্ষিত রাখুন:

  • ওয়ালেট তৈরি করার সময় এটি নির্ভুলভাবে কাগজে লিখে রাখুন;
  • এটি অফলাইনে, গোপনে এবং এমন কোথাও রাখুন যেখানে এটি হারিয়ে যাবে না বা নষ্ট হবে না;
  • কখনো এটির ছবি তুলবেন না, ইমেইল করবেন না, ক্লাউড নোটে সংরক্ষণ করবেন না বা বার্তায় পাঠাবেন না;
  • কখনো কোনো ওয়েবসাইটে এটি টাইপ করবেন না।

আপনি যদি আপনার সিড ফ্রেজ এবং ডিভাইস দুটোই হারিয়ে ফেলেন, তাহলে কেউ আপনার বিটকয়েন উদ্ধার করে দিতে পারবে না।

একটি প্রতিষ্ঠানের হেফাজতভিত্তিক ওয়ালেট-এর ক্ষেত্রে, একটি প্রতিষ্ঠান আপনার হয়ে চাবিগুলো রাখে, অনেকটা ব্যাংকের মতো। আপনার ব্যালান্স হলো আপনাকে অর্থ দেওয়ার ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিশ্রুতি। সেটআপের প্রক্রিয়া পরিচিত ধরনের এবং সহায়তাও পাওয়া যেতে পারে, তবে আপনি সেই প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল: এটি উত্তোলন সীমিত করতে পারে, অ্যাকাউন্ট স্থগিত করতে পারে, হ্যাকিংয়ের শিকার হতে পারে বা বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

প্রশ্নপ্রতিষ্ঠানের হেফাজতভিত্তিকস্ব-হেফাজতভিত্তিক
চাবিগুলো কার হাতে থাকে?প্রতিষ্ঠানেরআপনার
পুনরুদ্ধারের দায়িত্ব কার?প্রতিষ্ঠানের, আপনার অ্যাকাউন্টের মাধ্যমেআপনার, আপনার সিড ফ্রেজের মাধ্যমে
মূল সুবিধা ও দায়সুবিধা ও সহায়তা পাওয়া যায়, তবে আপনি প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীলসরাসরি নিয়ন্ত্রণ থাকে, তবে ব্যাকআপ ও ভুলের দায়িত্ব আপনার

বিটকয়েন জগতে একটি কার্যকর কথা প্রচলিত আছে: চাবি আপনার নয় তো কয়েনও আপনার নয়। হেফাজতের ধরন বেছে নেওয়া যোগ্যতার কোনো পরীক্ষা নয়। গুরুত্বপূর্ণ হলো, আপনি কোন ধরনের ব্যবস্থা ব্যবহার করছেন এবং কিসের ওপর আস্থা রাখছেন, তা জানা।

My First Bitcoin নির্দিষ্ট কোনো ওয়ালেটের সুপারিশ করে না। উপকরণ, ফি ও মালিক বদলায়, আর এক জনগোষ্ঠীর জন্য যা উপযুক্ত, তা অন্য জনগোষ্ঠীর জন্য উপযুক্ত নাও হতে পারে। স্থানীয়ভাবে মানুষ কী ব্যবহার করে, তা একজন বিশ্বস্ত শিক্ষকের কাছে জেনে নিন এবং যেকোনো ওয়ালেট ব্যবহার করার আগে নিচের বিষয়গুলো নিজে যাচাই করুন:

  • চাবি: চাবিগুলোর নিয়ন্ত্রণ কার হাতে, আপনার নাকি কোনো প্রতিষ্ঠানের?
  • পুনরুদ্ধার: আপনার ফোন হারিয়ে গেলে বা প্রতিষ্ঠানটির আর অস্তিত্ব না থাকলে কী হবে?
  • উৎস: আপনি কি এটি অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা অ্যাপ স্টোরের তালিকাভুক্ত পৃষ্ঠা থেকে ডাউনলোড করেছেন, কারও পাঠানো লিংক থেকে নয়?
  • কোড: এটির সোর্স কোড কি উন্মুক্ত এবং এটি কি সক্রিয়ভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়? (শুধু সোর্স কোড উন্মুক্ত হলেই কোনো উপকরণ নিরাপদ বলে প্রমাণিত হয় না।)
  • খরচ: পাঠানো, গ্রহণ করা বা উত্তোলনের জন্য কী কী ফি প্রযোজ্য?
  • পেমেন্ট: আপনার প্রয়োজনীয় পেমেন্টগুলো কি এতে করা যায়—অন-চেইন বা লাইটনিংয়ের মাধ্যমে?

বিটকয়েনে পেমেন্ট করার দুটি প্রচলিত উপায় রয়েছে। অন-চেইন পেমেন্ট সরাসরি ব্লকচেইনে নথিভুক্ত হয়। লাইটনিং হলো বিটকয়েনের ওপর নির্মিত একটি পেমেন্ট নেটওয়ার্ক, যা দ্রুত, অল্প পরিমাণের ও ঘন ঘন পেমেন্টের জন্য ব্যবহৃত হয়, যেমন এক কাপ কফি কেনা। লাইটনিং ওয়ালেটও কাস্টোডিয়াল বা সেলফ-কাস্টোডিয়াল হতে পারে।

শেখার সময় তিনটি নিয়ম আপনাকে নিরাপদ রাখবে:

  1. আগে শিখুন। উত্তেজনা, ভয় বা চাপের বশে কোনো পদক্ষেপ নেবেন না।
  2. অল্প দিয়ে শুরু করুন। অপরিচিত টুল ব্যবহার করে দেখার সময় এমন পরিমাণ অর্থ ব্যবহার করুন, যা হারালেও আপনি সামলে নিতে পারবেন।
  3. বিশ্বাস নয়, যাচাই করুন। কোনো পেমেন্ট অনুমোদন করার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, পেমেন্টের পদ্ধতি, ঠিকানা এবং অর্থের পরিমাণ যাচাই করুন।

অর্থ গ্রহণের তথ্য শেয়ার করুন, গোপন তথ্য কখনোই নয়। একটি ঠিকানা বা পেমেন্টের অনুরোধ শেয়ার করা যেতে পারে। সিড ফ্রেজ বা প্রাইভেট কি কখনোই শেয়ার করা যাবে না। কোনো বৈধ শিক্ষাদাতা, ওয়ালেট কোম্পানি বা সহায়তাকর্মী কখনোই এগুলো চাইবেন না।

কেউ যদি তাড়াহুড়ো করতে বা গোপন রাখতে বলেন, নিশ্চিত লাভের প্রতিশ্রুতি দেন, আপনাকে আগে বিটকয়েন পাঠাতে বলেন বা আপনার সিড ফ্রেজ চান, তাহলে থামুন। বিরতি নিন। কিছুই শেয়ার করবেন না। কিছুই পাঠাবেন না। তারপর আপনার আগে থেকেই পরিচিত কোনো উৎসের মাধ্যমে যাচাই করুন।

এরপর কী?

অর্থ নিয়ম ও আস্থার ওপর নির্ভর করে

ফিয়াট অর্থ লেনদেনকে সুবিধাজনক করে, তবে এর সরবরাহ ও নিয়ম নির্ধারণ করে অল্প কয়েকটি প্রতিষ্ঠান, আর সময়ের সঙ্গে এর ক্রয়ক্ষমতা কমে যেতে পারে।

বিটকয়েন ভিন্ন নিয়ম নিয়ে আসে

২০০৯ সাল থেকে বিটকয়েন এমন এক অর্থব্যবস্থা দিয়ে আসছে, যার সরবরাহ সর্বজনবিদিত ও সীমিত, যা সবার জন্য উন্মুক্ত এবং যার ওপর শুধু আস্থা না রেখে তা যাচাই করা যায়। তবে এর সঙ্গে কিছু আপসও করতে হয়: দামের ওঠানামা, সংশোধন করা যায় না এমন ভুল এবং ব্যক্তিগত দায়িত্ব।

নিরাপত্তা সবার আগে

আগে শিখুন, অল্প দিয়ে শুরু করুন এবং সবকিছু যাচাই করুন। আপনার সিড ফ্রেজ কখনো কাউকে জানাবেন না। আপনাকে সবকিছু একসঙ্গে করতে হবে না: পরবর্তী একটি নিরাপদ পদক্ষেপই যথেষ্ট।

এটি কেবল শুরু

শুরুর পাঁচটি প্রশ্নে ফিরে যান। এখন আপনি কী উত্তর দেবেন?

এই বিটকয়েন ডিপ্লোমা হলো পরবর্তী ধাপ। এর চারটি মডিউল আপনাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যায়—অর্থ বোঝা থেকে শুরু করে বিটকয়েন কীভাবে কাজ করে, কীভাবে নিরাপদে বিটকয়েন ব্যবহার করতে হয় এবং আপনার কমিউনিটিতে বিটকয়েনের ভূমিকা পর্যন্ত। কৌতূহলী থাকুন, প্রশ্ন করতে থাকুন এবং আরও জানুন এখানে: myfirstbitcoin.org।